সত্যের সন্ধানে আমরা

গাজীপুরে অপপ্রচারে অভিযোগ: অপরাধ দমন ও মাদক উদ্ধার অভিযানে ডিবির মনোবল ক্ষতিগ্রস্ত

গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকায় মাদক নির্মূল ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু মহলের অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর কারণে ডিবির এসব অভিযানের কার্যকারিতা ও মনোবলে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

সূত্র জানায়, ডিবি মাদক ও অপরাধ দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করছে। তবে অভিযানের পর কিছু ব্যক্তি নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে ডিবির বিরুদ্ধে অনিয়ম ও হয়রানির অভিযোগ তুলে সংবাদ প্রকাশের হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ডিবির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করেই নেতিবাচক তথ্য প্রচারের চেষ্টা করা হচ্ছে, যা বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে।

ডিবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের পর উদ্ধারকৃত আলামত ও অভিযানের প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। এতে করে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে এবং মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তারা মানসিক চাপে পড়ছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিবির একাধিক কর্মকর্তা জানান, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তারা মাদক, অস্ত্র ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করছেন। কিন্তু কাজের স্বীকৃতির পরিবর্তে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর অভিযোগের মুখে পড়তে হওয়ায় তারা হতাশ হচ্ছেন। এর ফলে কাজের গতি ও মনোযোগ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও তারা মত দেন।

ডিবির এক কর্মকর্তা বলেন, “আমরা পেশাদারিত্ব ও আইন মেনে মাদক ও অপরাধ দমনে কাজ করছি। কিন্তু কিছু ব্যক্তি সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে আমাদের অভিযানের বিষয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছেন; এমন অভিযোগ আমরা পাচ্ছি। এতে আমাদের কর্মকর্তাদের মনোবল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমরা চাই বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা, যাতে অপরাধ দমন কার্যক্রম নির্বিঘ্নে পরিচালনা করা যায়।”

ডিবির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, প্রকৃত ও পেশাদার সাংবাদিকদের সহযোগিতায় তারা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। সংশ্লিষ্টদের মতে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গণমাধ্যমের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও দায়িত্বশীল ভূমিকা বজায় থাকলে মাদক ও অপরাধমুক্ত গাজীপুর গড়ার উদ্যোগ আরও কার্যকর হবে।